শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সেলাই গাছের কারখানা  সৈয়দ আফসার
প্রথম প্রকাশ
একুশে বইমেলা ২০১২
প্রকাশক কোলাজ
প্রচ্ছদ ও প্রতিকৃতি চিত্রী সত্যজিৎ রাজন
মূল্য ১০০ টাকা





একগোছা নদী ও স্মৃতিকথা

একগোছা জ্যোৎস্নাকে যদি নারী  বলা যেত
একগোছা জল যদি নারী কিংবা নদী হয়ে 
বলত : সময়ের  বুকে সকল প্রস্তুতি কী রকম
                           যেন ছড়াচ্ছে একাকীত্ব...

শোকে-দুঃখে বহু বিবরণ অইখানে  মরে গেছে
           মরেনি কেবল জ্যোৎস্না, নদী ও নারী...
একগোছা  নদী, বাজাও  জলের ভুড়ভুড়ি শব্দ
একসাথে বাজাও  দূরত্ব... গেল বছরের স্মৃতি

বছর ঘুরে এলেই তুমি একগোছা স্মৃতি ধরে
বন্ধ চোখে কেবল রাত ছুঁয়ে যাও! আমিও 
কী পুনর্বার স্পর্শ নেব মর্মাহত চোখের?

একশ্বাসে দীর্ঘশ্বাস

স্মৃতির করাঘাতে অসংখ্য মুখ দেখে
চাপাক্রোধে নিজে পুড়ি, কিছুই জানলে না
                                       পাঁজরের নিধি
শেষ অংশে পরাজিত করে বললে এভাবে
চলতে পারে না;  তারচে’ বসো একশ্বাসে
                                         দীর্ঘশ্বাস শুনি

আমাকে ব্যবহার করো চাও কি; দিবস রজনী

র্আশলিপ্সিা

‘একটি জটিল আয়ুরেখা’ চিরকাল হাত খুলে দেখায়
হারিয়ে যাওয়া; না-যাওয়া; সেও এক চিন্তানুভবফুল
যেহেতু তুমিও আত্মকাহিনিতে লেগে আছ; বাদবাকি
স্বার্থরক্ষার ভয়ে জড়িয়ে রাখছ আঁকাদৃশ্য; অস্থিসার
চুপিচুপি ফিরিয়ে দাও স্মৃতি-সম্পর্ক, চিহ্ন ও সুতায়

প্রথম-প্রথম কোন কথা বললে, দ্বিতীয় কথার ভেতর 
বদলে ফেলা যায়; শুধু কিঞ্চিৎ মিথ্যা বলার ফর্মূলা 
                             জানা দরকার
জানার ভেতর যে রহস্য; তা কোত্থেকে আসে? তাকে
কি খাবো? মনে পরাবো? না বুকে রেখে ঠোকরাবো?
কারণ, ধ্বংস হবার পূর্বে আমাদের হৃদপিণ্ডের
বিষফল কাটছে করাত; আলজিভও কাটছে দ্বিধা ও ধার
তোকে জড়িয়ে ধরার শখ যেন স্মৃতি, সেই ছোট্টবেলাকার

কুড়ি বছর পর

কিসে যেন রেগে গেলে... তার মানে
হারানো কান্নাও হতে পারে গোপনে
আরো তিন-তিনটি বছর পর...
সবই বুঝি মৃদু ত্রুটি কাঁচা মাংশের ঘ্রাণে
ওই মুখ! ‘বর্ণিত হবার লোভে’ লাজুক বাগানে
                                                   মনে ও বনে

এসব ঘটনাপ্রবাহ কুড়ি বছর পর কবিকে চেনে
শেষ দিবসে আমি যখন কিছু কথা জমিয়ে রাখি
                         কাঁধেপিঠে ধূলির নগরে
কাঁপা হাতের আড়াল থেকে সর্বস্ব দাও
                                     অতি-গোপনে

বাসমতি ঘ্রাণ

কপাল বলে কথা! যা ভোলা যায় না
কখনো স্থির অথবা অভিশপ্ত অস্থির
ভাগ্য সে-ও পথিপাশের্¡ একার
পথভোলা... অভিযুক্ত যাযাবর
যদি তিরস্কার করো, তাতেও অহংকার
ইর্ষা যথারীতি সদয়, হৃদয় পুড়াবার 
কারণ—  
তোমার অঙ্গুরীর স্পর্শ তাজ্জব ব্যাপার!
ভেজা হাতে চাল ধোঁয়ার তরতাজা ঘ্রাণ
পাচ্ছি ধোঁয়া ওঠা বাসমতি ভাতের উপর

আয়না

আয়না নিজের সৌন্দর্য যাচাই করতে শেখায়
আয়না নিজেকে জানতে, জানাতে শুদ্ধির পথ দেখায়
এ-বিশ্বাসে সংকোচহীন  আলোড়িত! বিলোড়িত কল্পনা
মর্মগ্রহণতা তোমার চোখে... চোখ রেখে যদি বলি
                                                  চোখ মনের আয়না

লুকোচুরিতে হারাতে চাই না বলে এতটা নৈকট্য   
এতটা সৌহার্দ্য ছুঁতে পারা গেল;  কিন্তু প্রতিসত্য
প্রতিদিন আয়নার মুখ দেখার কথা মনেই থাকে না
এরূপ কথা বা রচনা অন্য একটি হাওয়ায় উড়ে গেল
তুমি কারো এসেন্সটুকু ভুলে খুলে নিলে

সারাদিনের পাপগুলো যখন মনের আয়নায় খুলে খুলে দেখি
পাপে-তাপে আয়না ও নিজের ছবির কাছে দুর্বল হতে থাকি

অশ্রুকথা

নিজের ভেতর হরদম ওঠা-নামা ফ্রকের ছায়া
সে  দেখেনি, তুমি রক্ত নিয়ে আসেছ  খামাখা
দেখ আমি ক্রমাগত গুটিয়ে নিচ্ছি নিজেকে
সারারাত জেগে থাকল ঘুম... দেখে যাও
                                               সঙ্গ দাও
ওহো তিরিশের সুপ্তকাঙ্খা শোকার্ত!
                             বলছি মমতাবশত
দৃষ্টি মেলে দেখি বুকপকেটে কম্পন কুড়াচ্ছো
কথা বলার আগে অধীর বুকে জমিয়ে রাখছ
                          কী কথা! কার কথা 
                         গোপনে যত  আনন্দ-ব্যর্থতা
আসক্তি একই রকম প্রায়; দেহসুদ্ধ অশ্রুকথা

স্বস্তি

শীত রাতে তোমার খোটা খেতে খেতে
স্বস্তি এমন সর্বভূক হল
যত ভাবছি ততই ভাল লাগছে, কলঙ্ক!
ভাবছি নামমাত্র চোখ বন্ধ করে, পার্কে

প্রকাশ্যে আমার জিজ্ঞাসা শ্বাসরুদ্ধ হলে
বলার অপেক্ষা, কিছুই  থাকে না...
          কথকতা তাও অকার্যকারিতা

শীতরাতে তোমার খোটা খেতে খেতে
শীতের তীব্রতাও  চায় দেয়ালে শোতে

পাপড়ি

মিশে যাচ্ছো অনেক দূরে, স্তব্ধতায়-গোপনে
স্পর্শ-লোভে-প্রাপ্তি কিছুই পাইনি  কুশলচক্রে
তিনটি পাপড়ি সাবলীল ভঙিমায় নাড়ালে একাকী
স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারে না অনুভূতি... এতদিনে
                                                    তাও জেনেছ
একই বৃন্তে ঘুরে নিজগৃহকোণে মৃত প্রায় আমি

বলছি পরাগ রেণু, কোথায় পাবে এতো এতো
                                                   মৌমাছি?
সে কথা শুনলে তুমি  হাসো— 
হাসতে হাসতে কিছু একটা বলো
কাঁধে রেখে হাত,  বাকিটুকু  থামাও

নিজ তাগিদে বীথি ছড়ালে আশে-পাশে চিরদিন
আমাকে কোন দোষে জড়াও? ফেলে আসা দিন

বিষদাঁত

সেদিনের পর বলছি লঘু-শোকে
বহু দূরে দাঁড়ালেও নেই নিষ্কৃতি 
সব নিষেধ ভেঙে সঙ্গ দাও
দিনশেষে বিষদাঁত নাড়াও
আজ তবে পাঠ হউক,  অন্য কিছু
                              অন্যান্য কথা
উত্তরে খুলছ অসহায়, দক্ষিণা 
বাতাসে আমি তত ভাল নয়

আজ তবে কিছু রোদ ঝরুক ছদ্মবেসে
জড়াক সদাসর্তক সূর্য্য ওঠার আগে

ছায়াস্বপ্ন

পুনরায় ফেরার আগে কি এমন
ছোট্ট-ছোট্ট কথা বলার থাকে যে
তোমাকে বারবার বলতে ইচ্ছে করে
                                 অর্ধেক হৃদয়!
হিয়ার ভেতর আমাকে  জাগাও কান্নায়
হারানো দিনে পুরনো কথাও সন্দেহ জাগায়

পথে ঘুরিফিরি সহস্র মুখ ভাল লাগে ছায়ায়
পুনরায় ফেরার আগে তুমি বলো—
সব ছায়া কি একসাথে ভালোবাসা যায়?

আর্তনাদ

বন্ধু যারা দুঃখ পেয়েছ রূপাদের কথায়
দুঃখকে করুণা কর না, হাড়ের ভাষায়
মিশে যাচ্ছো সম্পর্কে তৎক্ষণাত... 
                                        অল্পই তফাৎ
এই যা পান করা তামাকপাতা; শুশ্রুষা আহা!
সুখের ভেতর দুঃখটাও শিখছে চোখের প্রণয়

ওভাবে আমরা ভাবলে কেমন হয়?
গাছের ছায়াগুলি হাসে পাখির ডানায়
রূপাদের ছায়া মিশছে ঘাসের পাতায়

বন্ধু যারা দুঃখ পেয়েছ সমবেদনা তোমাদের
পোড়াবাড়ির,  রূপামনিদের  চক্ষুর, তারপর...

আর্তনাদ কেঁদো না আর!

অভিযোগ পত্র

একত্রে হেঁটে ‘যত পারো চুমো খেয়ো’
এ শীতের দেশে ভিন্নরূপ আর্দ্রঠোঁটে  
পুর্নবার অর্ধেক দ্বিমত লোকচক্ষু সম্মানে
বিগত দিনের মত অশ্রুপতন চকিতভ্রমে
অবশ্য নাও হতে পারে সঘন সঙ্গমে

স্পর্শে কোন অভিযোগ নেই,  সে-ও বলছে
কাঙ্খা যত তাও বুঝ; খুঁজো পুরো দশ আঙুলে
নিজ দেহে চেপে ধরি শোক আশ্রয় দেওয়ালে
সন্দেহের তাড়া পেতে শেষরাত্রি নিকটে রাখছি
                   শূন্যডিগ্রি  উত্তাপে ঘুম-বড়ি খেয়ে

চকিতভ্রমে একাগ্রতা আমাদের সঙ্গমতৃপ্তি
জোড়া চোখে ইচ্ছে মরলে চাই না সম্মতি

মন

মন কেটে কেটে মুখস্থ করছি লঘুশোক
তাকে মনে রেখে উড়াচ্ছি আকাশ পাড়
কতটা ওজন ওই  আর্ত-বাতাসের!
জানা হল না হিমালয় পাড়ে, বলছি 
সম্ভাবনা-দ্বিধা-ক্ষুধা  আঁকার ভেতর
নিজের জন্য গোপন রাখছি কিছু
                                ঘূর্ণন, ঘর্ষণ
কাঁটা মনের কল্পনা, ঠিক সন্ধ্যায়
আমাকে  ঝুলিয়ে রাখুন ভাবনায়

শিরোনাম হীন

আমি কি জানি? শেষরাত্রি ছুঁলে কীভাবে
বুকপাথর থেকে খুলে পড়ে মর্মভেদী  যত
                                          কথা ও ভয়
শক্ত পাথর আকুল হচ্ছে নরম ছোঁয়ায়
যা বলিনি তার জন্য জমছে কি বেদনা?
দোহাই তোদের; আমাকে জড়াতে বলো না রাত্রিকথা
আমার হাঁটার ফাঁকে জমছে হাওয়াপাগলা; মৌনধুলা

অস্থি

সব কিছুর ভেতর পরস্পর চোখাচোখি, আমি
কেবল দেখি; দেখার ভেতরও হয় কান্নাকাটি
না-দেখাও  ভাল... একটি স্বাভাবিকতা থাকে
যেমন বৃষ্টিদিনে, কালোমেঘ, মদমাংসের ঘ্রাণ
আমার নীরবতা বাগানবাড়ি খেলছে  মাঝরাতে 
                                                  স্বভাবদোষে

আপাত আমি সাইপ্রাসে দাঁড়িয়েছি স্পেনিসশাকে
সবজি ক্ষেতে অসহায় ডাঁটাশাক মাটি-গর্জন-শোকে

তুমি কখন দাঁড়িয়েছ জানতে পারিনি, দেখেছি শীতে
তোমার স্বাভাবিকতা দেখে ব্যথা জাগছে অস্থি-প্রীতে

পোষমানা

ইচ্ছাকে লালন করে পুড়ছো একা 
আমাকে আর কতটুকু দূরে রেখে 
বহন করা যাবে; নিয়ম ভাঙা যাবে
                                       স্বার্থপর!
হতে পারে জলে ও জালে গোপনইচ্ছা
সুযোগময় স্বার্থপরকথা বুঝে না সময়
নিয়মফল দীর্ঘ হলে সবত্রই খুলে রাখি 
                    দরকারি আশা ও উচারণ 
ক্লান্তিঘাম; একটানা জড়িয়ে ধরো বিশ্রাম

এ-রকমও ঘটে যায়; গোপনইচ্ছা ও ভয়
এই বুঝি ফুরিয়ে গেল; ভয় জাগা সময়

বিবৃতিগুচ্ছ ৩

তাকে পেলাম, জড়াশূন্য ইচ্ছা ও ছায়ায়
প্রকাশ এটুকু... সুকীর্তি অন্য কিছু নয়
                   দু-চারটি অনুনয়, বিনুনয়
আমাকে চিনে রাখে বনবাড়িতে হেঁটে আসা
রূপবতী নিমপাতা, মেথিশাক-ডাঁটা
এই ধরো, তালু হাতে আমাকে ক্ষুদ্রাকৃতি করো
দেখ, তিন দিনের সবুরে ফুটে ক’দিনের মেওয়া

নিজ দখলও উইড়্যা যায়,  পিঞ্জিরায় কাছের আত্মায়

নিজের ভেতর অজস্র বিস্মরণ, সে-ও অধরা
বেঁচে থাকার শোক, আশাকৃতি সব সামাজিক

গত শীতে আমারও প্রস্তুতি ছিল ঘনায়মান সন্ধ্যাভাব  
ঝাঁক রোদ টেনে সন্ধ্যাকে হত্যা করতে পারেনি বলে
                                          দুঃখ পেল চোখ ও নোখ 
সূর্যাস্তেুর পূর্বক্ষণে আমার বে-ভোলা স্মৃতিরা যেন
                             রক্তাক্ত ছায়া মোড়ানো কফিন

তাকে পেলাম রহস্য-বনে উলটানো পাতায়
জন্ম-মৃত্যু এমন নিয়মে বাঁধা, ছুঁতে মন চায়
প্রাণ খুইল্যা দিলেই বাঁচি জীবিতের আত্মায়

পর্দা

পর্দার আড়ালে মুখ লুকাতে নেই
পাই-পাই করে চোখের সৌন্দর্য কমে
জানালার পাশে কক্ষনো যাবে না
হোক সে চেনা কিংবা অচেনা
অচেনা থেকে গেলে পরিচয় পাবে
                                     মুখঢাকা
যদি পর্দা সরে গিয়ে বাতাস ঢুকে আড়ালে
চোখ ফাঁকি দিতে পারবে না কেউ ছোঁয়ালে

বৃষ্টিপাত

তুমি নীল আকাশে চেয়ে থাক অবিরত
আমি মেঘের গর্জনে কান পেতে বসি
বরষা এলো তবু... এখনও বৃষ্টিপাত হয়নি
তাই দরজার পাশে দাঁড়ানো পূর্ণিমার চাঁদ
                                          পেখম মেলে
যদি ভাঙা ঘুমে তারা গুনে রেখ হাতে
দেখবে তারায় তারায় উড়ছে মেঘমন
আড়াল রোদে, আবার বৃষ্টিপাত হলে

ক্ষমা করো

আমাকে করুণা করো না; ক্ষমা করো
দীর্ঘ সুতোরেখায় আমি... আমিও তানপুরা
সেতারের সুরে ভেসে যাব তোমাদের কাছে
যতদূরে থাকি; তোদের স্মৃতি নিয়ে জেগে র’বো
আরও অনেক দিন; আমি তো তোদের একজন
শাদা-কালো চামড়ার ভীড়ে মনে পড়ে, খুব মনে
পড়ে, তোমরাই ছিলে প্রকৃত স্বজন

স্বপ্নাহত

গতরাতে যে নারী স¡প্নমোহে শরীরের
প্রতি অঙ্গ খুলে রাখছে প্রদীপের সামনে
বলছে যৌবনের ফুল ফোটাতে পারো
                                   হাতের আঁচে
সবকিছু ছিঁড়ে খুঁড়ে খাও বাঁধা দেব না শুধু
শুধু বুকের গিঁট খুলতে মানা, যদি পারো
হাৎড়ে ওঠো শরীর, দেখাব কার জন্য 
অধরার বুকে অসংখ্য বেদনা জমা; সে রাতে
                                        ধৈর্যচূত হইনি—
স্বপ্ন ভেঙে থতোমতো দেহ, মুখটি চিনি নি
আহ! ভয়ে সে রাত তোমাকে ছাড়া ঘুমাইনি

কণ্টকফুল

হাততালি দিয়ে দেখ খেয়াল-খুশির
অন্য-নাম কি হবে না? আলাপ
চোখের ভেতর যে রকম চর্চা  হয়
                           গোপন-পরিচয়

আমার তাড়ায় সেও বলছে 'নিজস্ব ঝগড়া'য়
খুলে দেখ, জোড়া চোখের ভেতর তিনটানে
লটকানো স্মৃতি পুরো অন্দরমহল...

খেয়াল-খুশির ভেতর কাকে তাড়া দিচ্ছে
কত সেন্টিগ্রেট-এ  কাঁপছে সুতো ও জাল

তাকে তাড়া শেখাতে এসে আন্তরিকফুলগুলো
দোটানায় বড় হয়ে আমাকে শেখাচ্ছে কৌশল
কারিকুলাম : যেমন ঝোলা কণ্টকফুল

ক্রিস্টাল

চুপ চর্চায় পেয়েছিলাম অসত্যভাষণ
ক্রিস্টালের গলায় ঝুলা অনাসক্ত শোষণ
মৃদু হাসলে প্রস্তুত রাখো তোমার  জলহীন
                                   ঠোঁটের আলোড়ন!
এবার এসো, অ-স্থির হয়ে বসি; স্বপ্নের মুখোমুখি
ঘরে ফেরার শিথানে দাঁড়াবে কী? ঘুমহীন পাখি

ডাক

নিগুঢ় গুঞ্জনে খসে পড়ে জিভ
খোলা চোখে নয়, লালার ফাঁকে 
দেবী, প্রগাঢ় জলের রহস্য কী? 
ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নেয়া!...

বিভাজিত হলে অবগাহন কালে
কে প্রান্ত ছুঁয়ে এলো স্তব্ধতা ফেলে
তুমি ঘুরে দাঁড়ালে আমি লুকাব বাষ্পে
ফিরে আসব অঙ্গ খেলে, নিগুঢ় গুঞ্জনে

পূর্ণহৃদয়জুড়ে

এখনই যাবে, এই ভরসন্ধ্যা বেলায়
যাও তবে, প্রতীক্ষায় থাকল চোখ
ক্ষুধার্ত বুক, আরো কিছু প্রহর 

নীরবে যতদূরে যাও মিশে আছ ঊধ্বশ্বাসে
শুধু অজানা কতটুকু নিঃশ্বাস জড়াবে বিরহে
দৃষ্টি যতদূর যাবে আমিহীন রাত্রিবহর খুলে
মনকথা রেখে যাবে  কিন্তু পূর্ণহৃদয়জুড়ে

সংশয়

ইচ্ছে ছিল তোর সাথে যাব
                 ভরা বর্ষায়!
তাই ভিজে গেল শরীর
           উলটো হাওয়ায়

ভরা বর্ষায় বাড়ির চারপাশ জুড়ে
জলভাঙাশব্দ গুঁড়োবৃষ্টিতে মিলায়
ঝরে চিলেকোঠায়, খোলা বারান্দায়
তুই কী জানিস এখানে, ওখানে
আমাদের জলকেলি খেলা নিয়ে
জলে-স্থলে কত সংশয়

পোড়ামাংসের বাজার

সংকোচ মৃতকথার আঁচে পুরো রেঁনেসা
যার ত্রিকালে ধরাবাঁধা; প্রথাভাঙা আশা

কথার ভেতর থাকে কাঁটাঅলা কথাটথা তাও দামী
লুকানো রূপ দেখি না চোখে, অপদার্থ এই আমি!

বিস্ময় রেখে শব্দটি বিঁধে গেল চিকণশ্বাসে
এভাবেই পিছুটান ক্ষুদ্র মন-ঘরনার পাশে

তুলে রাখি প্রেরণাসহ কাঁচা হলুদে যত ক্ষতদাগ
আলোবাহকের শ্লেষে দেহলতায় বাড়াও অনুরাগ

নিজের ভেতর অন্য ক্ষরণ নেই বলে
আমার পোড়ামাংসের বাজার বিফলে

শব্দ

ছায়ার নিচে সে যদি রোদ কুড়ায় তবে 
সেলাইকলের টানাটানা শব্দগুলো
বাদ যাবে কেন, কলঘরের একটানা শব্দও
                                                     কুড়াক
নৈঃশব্দ জানে না সোনামুখী সুইয়ের ছিদ্রকথা-
সুতোহীন দীর্ঘশ্বাসে যতটা থেকে যায়; ওড়াই
                         শুকনো পালকে জ্বররুগ্নতা...
সেও যদি উড়বে তবে বালুচরে না— হেঁটেও
চোখের ভেতর জেগে উঠবে চর- তারপর
নিঃশ্বাসে মশলার ঘ্রাণে লুবায় কলকব্জা-হাড়ে
দগ্ধপাঁজর জুড়ে চুম্বনও হাসে, মাংশ খোললে  

ধ্যান ও বর্ণ

দাঁড়াও রোদে, আমি দেখি সালোকসংশ্লষেণ
নিয়নের মতো এ্যাতো বায়না ধরো সর্বাঙ্গে 
আপাদমস্তক টানাটানি প্রীতিসহ গভীর চোখে

শোধ পাবার আশায় আমাকেও ঋণী করো
স্পষ্টবর্ণে, বহ্নির ধ্যানে দূরঅব্দি বানাও
                                         বোবাদর্শক...

নিজেকে খুঁজি স¡প্নমহিমায়, মশারির আলোয়
ভাগ্যিস আমি আজও বেঁচে আছি সতর্কতায়
ভরাদৃশ্য অচেনা মোহে নয়, কাছে দাঁড়ালে
তোর বিশ্বস্ত চোখ আমাকে শিখায় নীরবতা
                                 জলপ্রাচুর্য, জলপতন

আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নিশ্চুপ, তোর মাতালচিবুক 

দূরত্ব নির্ণয়


যেহেতু তুমি  সরে যাচ্ছো  দূরে; আংশিক দূরত্বে
আমাকেও  দূরে রাখা ভাল অর্ধেক উত্তরাধিকারে 
দূরত্ব নির্ণয় হলেই সম্পর্কের ঘনত্ব বাড়ে; আর
ইচ্ছা বুঝাতে অনন্তঃ দূরে থাক হৃদানুভব ছিঁড়ে

লজ্জা ঠেলে আসা; খোলা ফিতার জামা যেন জটিল অংক
স্মৃতিরা বয়সের মুখোমুখি; আমাকে পরাও পুরনোসম্পর্ক
আমি পড়ে আছি পাহারায়; গোপন বাষ্পের ভেতর  
মন খারাপ থাকা; ছুঁড়ে দাও শূন্যতা; বন্ধন মায়ার 

উষ্ণফুল

দেহের উষফুল! এতো দিন মনে হত
সেও দ্যুতিময়; হয়ত সীমিত আকরে
অভিজ্ঞতাগুলো  ঠুকে রাখে স্থিতমনে আর—
চুপিচুপি আবস্কিার  করে কীভাবে 
                   দেহে  উষ্ণফুল ফুটে

পূর্ণতাসন্ধানে দেহের আকর গিলে পড়ে গেলে ফাঁদে
অপূর্ণতা ক্রমে ক্রমে মিলাচ্ছে শেষ বিকেলের রোদে

বুকটান

একা পড়তে চেয়েছি বোঝাপড়া; সারকথা
                                        ভীতি ও প্রলাপ
একটি বাকরুদ্ধ-কথা আমি লিখলেই কৌতূহল
যারা আমায় দেখছে পরজন্মে  পরশু-তরশুদের
                                                              বাড়ি
যদিও  ঘটনাচক্রে তেমন কিছু পাবার নেই
আজ শুধু পাশাপাশি বসি, দেখি আঙুলফুল

গুনে আমার পতন ঠেকানো যায় কি না?
কারণ, আঙুলফল চাষে সমাসবদ্ধ— আমিও
আত্মীয়জীবনী,  বহুদিন যে বুকে টানিনি

শুকনো পাতা

শুনে ভীষণ ভালো লাগে যখন দেখি
তোর চোখের কাছে জমা বহুকালের
                                   আহত স্মৃতি
বলছে তারও রয়েছে চারচোখা ইর্ষার বাতি
ভাবছি পরস্পর কিছু ঘটেনি; যতটা এগুলে
তোর গতির চাইতে বাড়তি সহানুভূতি 
বিগত দিনের ব্যথা এখনই ভুলে যাবার কথা
তাতে কতটুকু দূরে দাঁড়ানো ফলধরা ব্যর্থতা
কিছুই জানলি না—      
কিন্তু কী আশ্চর্য! এমন ভাল  লাগার সাথে
লুপ্ত ছিল তার টান-টান গভীরতা
                         তুমিও চিনে রেখ শুকনো

নিত্য ধূপ জ্বেলে

একান্ত বিশ্বাসে সে-ও লেগে আছে জলে শৈবালে
মিশেল ফুকো’র  মতো সত্যপথের ধ্যান কুড়াবার
বদলে শূন্যতা— বিষব্যথা জাগে শুষ্ক দেহের ছালে
আততায়ীচোখ আমাকে সস্তায় রাখছে ধূম্র-প্রতীক্ষায়
নোখে-আঙুলে সুতরাং দাঁড়িয়ে থাকার ছলে বুকের
ক্ষত ছ্যাঁৎ করে ওঠে কোর্তায় তোদের জামার পকেটে
দেহ থেকে ক্ষয়ে যাচ্ছে ভ্রমজাল, গা-মাছির জলে তৈরি
হচ্ছে বাসনাফুল,  কৌশলে নিত্য ধূপ জ্বেলে

বিস্ময়

বাতাস কেঁপে উঠে ডালে, উগ্র হাওয়ায়
একেলা  দু’হাত পেতেছি আকাশে
          তোর শরীর ফেটেছে পাতায় 
এই মর্মে তোর শরীর জড়াতে আসছে শীতজন্ম 
সেমিজের আগে... কিংবা কাঁথায় 
আকাশ ছোঁয়া যাবে না, তওবা-ছায়াকে জানাই 
         বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখি বুক
                      বুক ঘষলেই টের পাই
তোকে জড়িয়ে না-থাকার বিকল শুধু বিস্ময়!

দণ্ডায়মান

সেও  জানে কার জন্য তাড়া প্রতিদিন
কার ইশারায় গোপন  বাঁক পেরুলেই বন
                                          শব্দের গর্জন
সারাদিন আমাদেও  জড়ায়  স্বপ্ন ও মন
কার তাড়া আমার জন্য একা দণ্ডায়মান!

যদি কথাই হয়

যদি কথাই হয়; সারা দিয়ে যাব
প্রয়োজনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে র’বো
                                   আড়াআড়ি
শুধু অপেক্ষা একটি শোবার ঘরে
                    চারটি দেয়াল খাড়া
তিনটি অন্ধঘড়ির কাঁটায় লাফিয়ে উঠছে
        নিঝুম-অন্ধকার; অন্ধহাওয়া 

দৃষ্টি  কিছু-না-কিছু জমিয়ে রাখে
সরে দাঁড়ায়, সেও কথা শোনে  না      
কোথায় যে উড়াল দেব, কোন রাত্তিতে একা 
জাগিয়াছ অন্ধফুলকলি, জ্যোৎস্নাহীন নিশ্চয়তা
রাতে কিচিরমিচির শব্দেও মিলে গভীর নীরবতা

সংঘর্ষ

অসাড় হাওয়ায় কী অদ্ভুত কাণ্ডে সব ঘটল 
কাল ওই ধাক্কাটা সহসা বেগে ব্যথা পেল
কী  অলক্ষণে তা স্থানচ্যুত হল
শেষ পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে পায়ের সাথে
জোড়ায় জোড়ায় শব্দগুলো উপরে উঠল
শরীরে হাত দিয়ে ধাক্কাটা অনুভব হয়নি
                                  কোথায় হারালো
যে যাই বলো; সেদিন কেন এমন হল
ধাক্কাটা বুকের ভেতর ঘূর্ণির মত নাড়াল

ফেরা

ফিরতে চাই গর্বে কমপক্ষে তিন ক্রুশ দূরে
তোর হাসির আপসেট জেনে শেষ ভরসা মনে
তোর কাছে যাওয়ার রহস্য ভাললাগা অন্তরঙ্গ—
                                                     তিনকোণে 
যা কিছু ফেলে আসা হল, হাতে তুলে নাও
ধুলো-বালু সরাও, জল ঢালো স্নান করাও
ফ্রেমে বাঁধো তারে; ড্রয়িংরুম সাজাও
অন্যরা দেখুক, শিখুক কীভাবে জোড়াআদরও 
ভাললাগা চিরকাল মন খায় লুটে 

জানুক আর্তনাদ পুষে কতটুকু দূরে থাকা নিরাপদ! 
                                                   অ-পোষণঠোঁটে

আঁচল

নীরবে বসে থাকার মানে কি? বেদনা ও বিবিধ
প্রথম বর্ষায় যাতনাগাছে সই পাতছি, দাঁড়ালেই
প্রেম! শুধু জানলে না কে তাড়া দিচ্ছে পেছনে

এই হাতের শুষ্কতা হয়ত দাবী করে নেবে!
ওই হাত না-ছুঁলে দেহ কেন পূর্ণতা পাবে?

জ্যোৎস্না রাতে তারার সাথে আমি গেঁথে রই 
প্রলুব্ধক্ষণ ভাঙি নড়েচড়ে উঠি চাঁদের কোলে
প্রণয়ালো প্রকাশ্যে ফুটেছে  শাড়ির আঁচলে

দৃশ্য-অদৃশ্য

বিচিত্র দৃশ্য অন্যত্রে গিয়ে ফের এসেছে নিকটে
নিকটজন যেমন ফেরে ঝেড়ে দীর্ঘশ্বাস
শৈশব-স্কেলে স্মৃতির মাপ-জোক, আহারে
                                            বোধের দাস
ভবিষ্যরঙের রূপগুলো পাশ-জানালা  ঠাস খেয়ে
নামছে অবসরে, আর আমি তাদের রঙ মেখে
সন্ধ্যান করছি আমার শুভ্র-প্রিয়-কথা
বলি দেহের আঁচে জেগে ওঠো তুমি সন্ধ্যেছায়া
                       নৈকট্যজনের টোকায় টোকায়
দৃশ্য-অদৃশ্য পথের  কাছে ঋণী অন্য মজমায়

দগ্ধ পিপাসা

মন যদি ভাঙো তুলে দিতে পারি 
                                  দেহভার 
বলো, প্রশ্রয় দেবে কি? একা 
                      রক্তাক্ত হবার
উইড়্যা যাবে তো যাও চিহ্ন না-রেখে 
যেও রেখা চোখে, ধার পিপাসায়
                               আমি একা
একাই কুড়িয়ে তুলি দগ্ধ পিপাসা  
পাতালে টেনে রাখি পাহারা ও ভয়

বর্ষা

গাছ  কি স্বপ্ন দেখে ডালে বসে?
নাকি জিরিয়ে ছিল পাতায়

জানতে চাও; জানতে দাও রসায়ন
দাঁড়ি-কমা শিখাও, নিঃসঙ্গতা... কোলন
                               আশাহত ব্যাকরণ

টুপটাপ শব্দ বাজে; বাজে না বৃষ্টি ও পাথর
লতাপাতা ছন্দে হাসে; হাসে হাওয়ার শহর

তুমি জড়তা তুলে নাও গাছে, প্ররোচনায়
জলের উষ্ণতা পাবে পাতায়, ভরা বর্ষায়

জলের বিপরীত জল

চিন্তা থেকে তুলে আনি কথা, অর্ধেক নীরবতা
নীরবতার ভেতর চিন্তা আসে, আসে দুশ্চিন্তা
ফলে, শূন্যতা ঘিরে রাখ তুমি নীতিবাক্য জপে
বিশ্বাসে মনোবল বাড়াও, বাড়ে পরিচিত আশা
আত্মকথনের  ছলে, ভঙিমা  গিলে

আঁজলার ফাঁকে আর কতটুকু জল ধরে রাখছ
কুশলতা উড়ে যাবার ঠিক কতটুকু আগে?
আমারও  চিন্তাশিকল ভাঙার ইচ্ছে জাগে
চোখদ্ধয় পাতি, সাধ জাগে, ঠিক পরিমান কত?
কিছুই বললে না; দেহমিনার আমাকে মাপ করেন
যথার্থ বিশ্বাসে আমিও পুষি জলের বিপরীত জলে

সেলাই গাছের কারখানা

দেখুন,
আশার পায়ে লেপে রাখছি গন্ধভেজাজল
জলফুল, মনফুল ব্যথার প্রায়শ্চিত্য শিখুক
তার নিচে লিখে রাখছেন বন্ধপথ, ভর-মাটি
স্পর্শের শির শির হাত নেড়ে এটুকু বল্লেন! 
ঘুম, আপনিও কি বলবেন? হারানো শক্তিই
                       কেবল বিশ্রামাগার

জানালেন,
সর্বাঙ্গে গতিফুলের প্রত্যাশা, কি ভীষণ নেশাতুর
ফলে বহুকালের দুঃখবোধ সাজিয়ে আমরাই...
আমরা আপন ব্যূহে সাজাই মুখোমুখি হই, কেননা
পাশে জলফুল, ছায়াফুল, সেলাই গাছের কারখানা
ভাগ্যিস, ভরা রোদে আমার সমস্ত শরীর ভ্রমনস্মৃতি
                                ছায়ায় আমি স্থির, স্থির কল্পনা

শখ

নিষ্ঠুর যত শখ ছিল তারাও একা একা পাঠ করে গেল 
একটিও পূরণ হয়নি দেখে  স্বতঃর্স্ফূততা সওে আশাহত
বলল সত্যিই চমৎকার বদলা নাও; অস্ফুটশৈশব
কাছে যা পাও খুলে নাও, তুলে নাও, পূর্ণদুপুর সাজাও 
স্পর্শ-প্রীতিপ্রবণতাও  বাঁধছে তিন-তিনটা শীতকাল
উষ্ণতা ছাড়া একাই টেনে তুলি চোখসহ দৃষ্টি ও চুম্বন

দুঃখদিনে তুমিও  টইটুম্বুর; ঝড়-বৃষ্টি আনকোরা ভায়োলিন
ঘুমের নগরে দাঁড়িয়ে থাক বছরান্তর আর ক’টা অলস সময়
বিরহদিন বড়জোর হৃদয়-টিদয় নাড়ায়; ক্ষতদাগ দু-একটা
মিলায়, অসময়ে তুমি অভিমানি সমঝদার নিজের ভেতর

দেহের অনেক শখ চুপচাপ আচমকাই হল রাতের সবক 
আড়চোখে মুখটি না-দেখা ওঠা কী পাপ, নাকি নির্বাক?

আমি আর ছায়া

আমি আর ছায়া একইস্মৃতি  মাড়িয়ে একসাথে হাঁটি
আমি আর ছায়া জঙ্গলবাড়ির আর্শিবাদে ধূলি ও খুঁটি

সে আর আমি আগুন পোড়ানোর গল্প লিখে যাই 

সুখের পেছনে হাঁটতে-হাঁটতে ক্লান্ত আমি আর ছায়া
ছায়ায় হাত দিয়ে দেখি; সে আর আমি একই কায়া!

স্বাদ

জিহ্বায় জল এলে লবণের কী স্বাদ পাবে
পিপাসা  শেষে দু-চুমুক, তিন-চুমুক দাও
                                                 তবে—
আঘাত কর না দাঁত, যতক্ষণ না ঠোঁটে ঠোঁট  চাটে
সাড়া দেবে না কক্ষনো, সেও দুঃখ নিয়ে যাবে খুঁটে

পেয়ারা চুরি করে খেলে দাঁতের স্থায়ীত্ব কতটুকু বাড়ে
কলা খেলে বাকল কি ফেলে দিতে হয় রাস্তার ধারে?

লবণের যতটুকু স্বাদ, জিহ্বা ঠিক ততটুকু বুঝে
মিশ্র স্বাদে পেয়ারা কি কখনো কলার স্বাদ খুঁজে

বিমর্ষনেশা

সব দেখি, সব ঘটনা-রটনা  আমাকেও  বুঝে
ইচ্ছে করে রহস্য প্রাণে উড়াই ইচ্ছে প্রতারণা
কামনা  জর্জর সম্পর্ক এমন যে, প্রাণও খুঁজে
কি আশ্চর্য, নিজের চোখটিও  নিজে দেখি  না

গালে রেখে হাত, কি ভাবছো, একবার কও
সুদূরতা  কতদূর থাকে, বিমর্ষ স্নেহের অতীত
সম্মুখে বসিবার আগে যত্নভরে একবার জাগাও
আগুনে পোড়াব না, সামলাও  ব্যর্থ দু’টি হাত

আর্তনেশায় চমকে ওঠো, রাত জাগে হতাশায়
একা  দাঁড়িয়েছি, একা দাঁড়াব স্বজনের ছায়ায়

জ্বরস্পর্শ

তুমি রাখছো আচ্ছন্নতায়, সুতোপথে
                                  পৃথক সত্তায়
নিজেকে ব্যবহৃত করি পৃথক অর্থে
                              ডালের ছায়ায়
ভরা ভাদরে জ্বরস্পর্শ ছুঁয়ে আসো
                                            কথা ও ঘটনায়
আমাকে বিদ্ধ করে যাচ্ছো বারবার যৌনহাওয়ায়
যাত্রাপথে কত শীতজন্ম চুরি করছো মেঘহৃদয়?

মন খুলবার পত্র

প্রতিশোধ নিতে অতিসতর্কে মন খুলবার চাও! 
সমর্পণের আগেই সে¡চ্ছার রঙ খুলে বলছ : নাও 
কপালের  লালটিপটি সোজা  করে দাও, চাইলে 
দেখে নিতে পারো; খোঁপার ফুলটি আছে কি-না 
                                                         ঠিকঠাক 
মন-দেহে র বোতাম খুলে সামিল হব না তাই
আশার মন টেনে ধরি, এক একটি দিন ফুরায়
তোমার আচরণগুলো শংকিত করে তুলে, কেন 
এমন করো? কিছুই বুঝি না প্রয়োজনীয়তাটুকু 
বুক ছিঁড়ে-খুঁড়ে খায়, ঘুমের পাশে রাত দীর্ঘ
বলেই হৃদয় খুলে চুপচাপ বসি সময়সমীপে 
নিঃশব্দে বুক থেকে ঝরে, কৌতূহলী জিজ্ঞাসা

গহ্বর

ভেজাচুলের সৌন্দর্য লুকিয়ে দেহের অবশতা 
ঠিক এড়ানো গেল কি-না জানতে ইচ্ছারাও 
দূরে তাকায়, ভাললাগে; জানতে চায় কেন 
নীরবে দেহফুল পোড়াও, ঢেউগহ্বরে নিমজ্জিত
করো আত্মপরিচয়, আপন ছায়া

স্বেচ্ছায় আমাকে ছোঁও প্রতিদিন, কিছু বলি না 
মর্ম ছুঁলে লজ্জা পাও, মন লেপে পোষণ করো!
                           চুপচাপ চুমুফল লুফে নাও 

টিপস্

ফিরে  যাব তাই, ওই তো দেখা যাচ্ছে রূপান্তর
অনতি দূরে চুষে রাখছ চোখে  আশা ও আর্শীবাদ
আরেকটু দেরিতে ফিরে পেতে পার দীর্ঘনিঃশ্বা সসহ 
                                     হারানো বিশ্বাস
আশা নিরাশার মাঝখানে কি অদ্ভুত পরিবর্তন 
                                     মন জাগানোর টিপস্ 
কা¬ন্তি-গাছের বিরলে আমিও ধরে রাখি উপস্থিতি 
বার্তাবহ জ্বলাহাড়ের গুঁটিকয় নীরবআর্তি 

কোথায় যাব? আশায় দাঁড়ায়নি বেলা; স্বপ্নাহরণ 
গোপনে টানছ সময়শাসন! এভাবে কি গড়িয়ে 
নামবে জোড় বরফের হিমতা, চেষ্টা ও দখল?

ভেজা করতলে

বরফের দেশ, অন্ধকার কিংবা শীতরাত্রির চিবুকে 
চুমু দিতে ইচ্ছে করে বলেই সুগন্ধির সাথে কিছু 
নেশা ও নিষ্ফলতা দূরত্বে রাখা দরকার 
চোখের চেয়েও অধিক মাতাল ইশারা, দেহসতর্কতা  
ফলে ঋতুগন্ধা-মুহূর্তে স্বপ্নচ্যূত হও অক্ষত বুকে!

এতদিন পর স্মরণকথা অন্ধকারে সাহস জাগায়
মনের সন্দেহ গড়ায় যৌথজলে; ভেজা করতলে

আলাদা হচ্ছে না জেনে কড়া নাড়ছো  মনবনে 
চৈতালি দিনে মিষ্টি বাতাস নির্বাক দাঁড়িয়েছে
ঠিক দুপুর, জর্জরগাছে ফুটছে তুলোফুল, দৃষ্টিভরে 
শেষ বছরের ঋতুটি দেখি; অপ্রন্তুতি পালাবার 
আগে বলি বিদায়ী ঋতু কৃপা করো, টেনে নাও
তোমার এমন রূপ-বৈচিত্রের দেশে

কাঙ্খা

মাটির টানে সবাই ফিরে পোড়াগৃহে
মাটির ভরে খাড়া কার্মাত দেহখানি
মন এত অসহায় যে, একটাই দাবী
আজও হল না কেন সমাজবিপ্লবী!
এ নশ্বর পৃথিবীতে মানুষ হলাম কেন?
কারো প্রয়োজন পড়ে না

পুনর্জন্ম  পেলে হব আমি খলখল নদী 
ভরাবৃষ্টিজল, ফুলের ঘ্রাণ, অসহায় রাত 
                                        কিংবা খুনি

স্তুতি

বেদনার পাশে দীর্ঘ পথ হাঁটা যায়
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে
কথা বলা যায়; অভিমান করে ক’দিন 
কথা না-বলে থাকা যায়, কিন্তু  

বেদনাকে পাশে নিয়ে ঘুমানো যায় না

মানুষ চেনার সূত্র সন্ধ্যান

সহজে সব মিলে, পৃথিবী যে হাতের মুঠোয়
প্রযুক্তি কখন তৈরি করবে আধুনিক যন্ত্রটি
                                           মানুষ চেনার 
আশায় দাঁড়িয়ে থাকা, মানে কি অত্যাবশ্যক? 
মানুষকে চেনার ইচ্ছায় দিনে দিনে অবিশ্বাসী
                                        আমার দু’টি চোখ

জীবনচাকা

কত ছুঁতোয় দিনদিন আমাকে গ্রাস করছে
                                             জীবনচাকা
শহরের এক-একটি দিন কেমন! বুঝি না
হাঁটার ফাঁকে দাঁড়াই, ভরসা পাই না
মনের অনেক রহস্য বহুমাত্রিক নয়; তবু 
খুচরো কিছু পেতে ভান ধরে থাকা
মন প্রেরণায় শোকাহত বাহির ঘর 
চোখ কচলে এদিক ওদিক তাকাও
বলতে পারি না, অন্যত্রে তাকাও কিংবা
কিছুটা দূরত্বে রাখো অপর চোখ 

জলমুখ

ঝড়োহাওয়ায় লুকোতে পারিনি
জলেও  লুকানো গেল না আমার 
                                           মুখ
নিজেকে ঝুঝতে ভুলছি চেনাজানা
সম্পর্ক, এ শিহরণ কেমন রোগ?
চিন্তা দুশ্চিন্তা টানছে, কাকে আগে
                                           খাই? 
প্রশ্ন, আমাকে পান করতে চাও
আমি শীতরাত্রির আকাঙ্খা লুটতে 
আকুতি-মুখটির তৃষ্ণায় যাব
                       
এই ওঠা-নামা, এই ধ্বংসাবশেষ
             হয় না শেষ

পরস্পর

প্রাণকে ধারণ করে যে গাছ
গাছকে ধারণ করে যে মাটি
সে মাটিতে রাখছি আমাদের 
                                 পা

জলে মাছের বাসবাস
নীলাকাশ পাখ-পাখালির
মাছপাখির স¡তন্ত্র চাষ

গাছ ও মানুষ নির্ভরতা পরস্পর 

ঘুমপর্ব

মা প্রায়শ বলতেন, ‘ঘুমে ভেতর এত কথাবার্তা’
অবাক হতাম, ঘুমকে খুলে দেখার আগ্রহে পুরো 
              শৈশব-কৈশোর স্বপ্নদোলে 

ছোটবোনটি এখনও বলে ‘ঘুমে এত বিড়বিড় 
এত কথা কার সাথে বলো, দু’চার কথার পর 
আবার চুপচাপ কি ভাবো সারাদিন’?

তাকে বলি না, সে যে পুরাণঘুম গন্তব্যহীন 
হতে-হতে বিগত কাল সেঁকে নিচ্ছে আগাম 
দূরত্বকাল কীভাবে জানবে সে, ঘুম আমাকে 
খেতে খেতে বানাচ্ছে অলস

ঘুমদিন, ঘুমরাত, বলেন ঘুমহীন ভাই
ঘুম চোখে আমি কার পোষাপাখি হই?

আশালিপি

চোখে এত আশা! বুঝি না আগা মাথা আগ্রহ কম
বর্মে কিছু আগ্রহ, কিছু আত্মসমর্পণ পুরনো টেনশন
লজ্জার চোখে খুঁটে তুলি মৃদু শিহরণ, কাদা-মাটি ঘ্রাণ
পৃথিবীর সব দুঃখ প্রকাশের ভাষাগুলো একই রকম

সবখানে মানুষের আনাগোনা, পরিকল্পনা, কৌতূহল
দেখে নিত্য জ্বালাই সাতটি অহং, তেরোটি তারা গাছের 
সাথে কুড়িটি বোবাজ্যেৎস্না একা পুড়ছে গুহার ভেতর
তোমার উদাসীন চোখে দেখছি কেবল ঘন বনজঙ্গল

আড়াল

মানুষের মুখের দিকে তাকালে মায়া লাগে
কিন্তু  চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে 
পারি না; চোখের দিকে তাকালে স্মিতহাসে 
                           কারো মন খারাপ থাকে   
কথা বললে কারো কপালে ভাঁজ পড়ে
কেউ-বা দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেয় বিরক্তিতে
কষ্ট বুকে চেপে জিজ্ঞাসা, কেমন আছি

অথচ চারপাশেই মুখের দিকে তাকিয়ে
চোখে চোখ রেখে মানুষ কিভাবে মিথ্যা
বলছে; রাজনৈতিবিদ থেকে মুদি দোকান 
সবজি ও মাছ বিক্রেতা ভোক্তাকে ঠকাচ্ছে    

আমি মাটি-চোখে কথা বলি আর 
মুখোশের আড়ালে বুঝতে পারি না 
                       তুমি আসলে কার?

বিস্মৃতি

পায়ের সম্পর্কগুলো নড়েচড়ে ওঠে
মন্থরভঙ্গিতে সূর্যও ঝুলছে ঠিক মাথায়
সূর্য ডুবাকালে যাত্রাপথে ছায়া দাঁড়িয়েছ
পা-ভরে পায়ের আওয়াজ, গন্ধহীন ঘাস

সবকিছুতে আমি’র নির্ভরতা খোঁজো, সদা
ভাসাও বন্ধ চোখের বিশ্রাম, হাতছানি দাও
টানা অনুভব শরীরে জাগে! অন্তর্বেদনা খুঁটে
                                            স্বরূপে দাঁড়াও

পরিচিত রূপগুলো বিষন্নদৃষ্টি খুলে ইশারায়
আজকাল মুখোমুখি হবার অনুমতি চায়!
                         জানায় হৃদয় শূন্যতায়

সহজপাঠ

কিছুই বুঝি না, জানার আকাঙ্খায়
বুক ছিঁড়ে, জানাটুকুও ফেঁসে যায়   
সব মিলে কি সহজে? অমন আশায়
অজানা কথকতা পুষেছি মনের খাঁচায়
সে খাঁচার বিশ্বাসে তুমি যদি আমাকে
মূর্খ ভাবো-  মুক্তি পাবে না, পাবে না
রাগ-পোড়ার এক চিমটি ছাই

কিছু বুঝি না, জানতে মন চায়, পেছনে
কে বাজাচ্ছে হাততালি, কারণ
ক’টি বছর কেটেছে একটি স্থির ঘোরে
অথচ জীবনে কিছু ভুলভ্রান্তি জীবনভর 
নির্ভুলভাবে বাঁচতে শেখাবে

সুনসান

চোখে চোখে  কথা হলেই সহৃদয় সুনসান আর
                                                      বর্ষাদিন!
দৃষ্টির ঠিক পেছনে দেখি পুরাতন ভাব বিনিময়
আমাকে জড়াতে চায় গুহামুখ আর মাটির বাকল
আমাকে খুলে রাখিও একা, ওহো খোলা জানালা
কান্না  যদি অদল-বদলে হয় বিশ্বাস; শঙ্খমালায়
কুয়াশা চাদর ফেরাও দৃষ্টি; অদৃশ্যে হই আত্মভোলা
সহস্রকুয়াশামুখে  আমাকে বেরুতে হয় সকালবেলা!

চিন্তাপোষাক

ধারণায় বানাও অপ্রত্যাশিত ব্যথা, কিছু
                                         চিন্তাপোষাক
পোষাকে খুঁড়চ্ছো শূন্যতা, অদৃশ্য মায়াজাল
সব দিকে দূষিত বাগানবাড়ি; পলক চোখে
বিষণতা পালায়; ঘড়িরশব্দ কিছু উঁইপোকা
আমাকে টেনে  রাখে ছেঁড়া স্মৃতির পাতায়
রিটার্ন বিশ্বাসে আমি জবাবদিহিতা খুঁজি-
                        খুঁজি নেশা, অন্যান্য বার্তা
আমার বিপরীত মূহুর্তগুলো আমাকে টানে 
অন্যমহাকাশে, যেখানে মিলবে অম্লসাগর

শরীরের ভার ব্যথার’চে অধিক ব্যবধান 
দেয়াল, দৃষ্টিগম্য হও খুলে দেব প্রীতিজল 
চিরকাল পাশে পাবে মমতাফুল, অন্ধকার 
লালিত চোখে ঝরছে; সে চোখ কার?

দূরত্ব নির্ণয়

যেহেতু তুমিও সরে যাচ্ছো দূরে; আংশিক দূরত্বে
আমাকেও দূরে রাখা ভালো অর্ধেক উত্তরাধিকারে
দূরত্ব নির্ণয় হলেই সম্পর্কের ঘনত্ব বাড়ে; আর
ইচ্ছা বোঝাতে অনন্তঃ দূরে থাকো; হৃদানুভব ছিঁড়ে

লজ্জা ঠেলে আসা; খোলা জামার ফিতার জটিল অংক
স্মৃতি বয়সের মুখোমুখি; কে পরবে পুরনোসম্পর্ক
আমি পড়ে আছি পাহারায়; গোপন বাষ্পের ভেতর
মন খারাপ থাকা; ছুঁড়ে দাও শূন্যতা; বন্ধন মায়ার

যৌথপাঠ

যৌথতা, কেন বলছ ভেজা বরষায়
কত প্রসঙ্গ আসে ‘সে এক বিস্ময়’
সেই কবে, জোড়া-চোখের গহনায়
গ্রহণলাগা মৌসুমী ফলের 

যৌথতা, মাতালের নেই কোন দায়

আগামী  অধিকার এমনও হতে পারে
অমন  না-হলে প্রতিবেদনা  খুব ধীরে
মেলামেশা করে, সারমর্মটুকু আঁধারে
অলস দিনের মত রূপ ধরে ও ঝরে

যৌথতা, ‘ইচ্ছার ব্যাখ্যা’ জানবে সন্ধ্যা পরে

জলে না-ভিজে কীভাবে নেবে  জলজ্ঞান?
জলের চিবুক যে অর্ধেক জেনেছি, কারণ
জলের আয়নায় ফুটছে বাঁধা চুলের ঘ্রাণ
ওই ভেজাচুলে মাতাল ঘ্রাণ চিরদায়হীন

যৌথতা, একাকী বৃথাপাঠ  জলজবিজ্ঞান

স্বপ্নভাঙার খেলা

ঘুমের ভেতর স্বপ্নকে মধুকর মনে হয়
স্বপ্নের ভেতর কখনও হাসি, কখনও কাঁদি
মাঝরাতে গভীর ঘুম বিশ্রাম পায়! 
ঘুম ভাঙলে সিগ্রেটের ধোঁয়া অন্ধকারকে 
জিজ্ঞেস করে কোল বালিশের পাশে 
কেন দাঁড়িয়ে থাকে শেষ রাত্রির একাকীত্ব!...

স্বপ্ন জানে না, আমার চোখে জমাছে অজানা ভয়
একাকীত্ব জানে কী? গভীর চোখ কাকে তাড়ায়!

কালোতিল

ঠোঁটের ডান কোণে দ্যুতি ছড়াচ্ছো! কালোতিল
খোঁপা খোলো আমি কুড়িয়ে তুলি গন্ধরাজ ঘ্রাণ
পিপাসিত কুমারী জলে ফুটছে গত রাত্রির ফুল
স্থিরলক্ষ্য, ফাঁকাবৃত্ত ঘুরে ছুঁয়েছ কি আপেলবন?

ঘোরদ্বিধায় ছুঁই ফলতৃষ্ণা পোড়ানো স্মৃতি ও গ্রহণ
বাণ ছুঁড়া ইশারা; দূর-পাখি-পালক আহা নিচুদেশ
নিচুকেশ; তুমি নাচো ইচ্ছে বিপরীত পাল্লায়; কারণ
নিজ মোহ জলে ঢেউ খেলে চিরচেনা বর্ষা ও বাতাস

ঠোঁটের ডান কোণে দ্যুতি ছড়াচ্ছো! কালোতিল
দৃশ্যচিহ্ন  টের কি পাও, কেনো সে মনে জাগিল

কথা

কথা বলার ভেতর যে আনন্দভাব থাকে
কথা বলার শেষে তাও কি ধরে রাখা যায়?
সারাক্ষণ জীবন-জিজ্ঞাসা, ফোটে কি ফোটে না
এই প্রাবল্যে কাটছে সময়, বহু দিনের ইচ্ছা
আর ক’টা দিন পর সব কথা পরবে মুখোশ—
                              হারাবে অঙ্গের সচলতা
চোখ খুললেই দেখি জটিল রূপ রেখার ভেতর
হাঁটতে হাঁটতে তুমি তুলছো রোদ ক্লান্তবুক
                                            পাতার ছায়া!
পপকর্ন, সে-তো  ভালোই জানে, কতদিন
কাটছে একাকী, কাটছে  সময় ও নিঃসঙ্গতা

আমি ও সময়

সর্বনাশে কথা ভাবতে-ভাবতে জিভে বিঁধে
যাচ্ছে দাঁত, কাউকে বলি নি হঠাৎ বোধে
কী পূর্ণমাত্রা পেল যে গুটিয়ে নিচ্ছো হৃদে
যে ধারা দুলছে হাওয়ায় শীতের রোদে

যেমন, সে-ও দাঁড়িয়েছে দ্বিধাহৃতচোখে; ক্ষুরধার
আশায় দোলছে পরশখানি, বুকে বহিতেছে ঝড়
সরে যাবে বললে দ্বিধাও হাসে, নিকটে দাঁড়াবার
আগে কীভাবে বলি টানিয়া তোলো দেহাঙ্গীকার

বহুদিন ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছি কথা, দয়ার আশায়
তোমরা যারা ভুলে যাচ্ছো, তোমাদের লুপ্ত প্রেরণায়
পরবাসে একাকী হাঁটি; দিন শেষে রাতের অভিপ্রায়   
সম্পর্ক ছিন্ন করে আত্মগোপনে যাব আমি ও সময়

সরে যাবে, কোন বাঁধা নেই, অমন হতেও পারে ইতি
আমি এমনই আছি, যেমন ছিলাম, বদলায় সমপ্রস্তুতি

চক্রকথা

কাছের মানুষ পাশে থাকতে নেই! বলা কি ঠিক?
যতদূরে থাকি সম্পর্কের গাঢ়ত্ব আরো বেশি ছুঁই  
জানালার পাশে যে দাঁড়ায়; নিয়মচক্রের বিস্তারে
যতই অপেক্ষা; ততই অভিযোগ জাগায় সংশয়
                          সে-তো আমারই পাশের চোখ
আমি তারে দু’চোখের পাশেই রাখি মমতা, নিকটে এসো 
পুনর্বার বলো; তার সঙ্গ পেয়েছো কী? যত নিষেধ প্রণালী 
আঘাত, নিয়ম ভেঙ্গে না কথকতা; ‘দিলদরাজ’ প্রিয়করাত 
খোলা  মর্মভেদ আর সাজানো মুহূর্তকালে কেন যে আমি
                                                 এত এত নিঃসঙ্গতা পুষি

প্রিয়অন্ধকার

এই অন্ধরাত্তিই আমাকে পুরোটা গিলে খাবে
এই অন্ধকারে নিজেকে খুঁজিতেছি বারবার
স্মৃতিকথাও চেটেপুটে খাবে  স¡প্ন প্রেমিকার
অন্ধকার আমার রক্তে মাংসে  মিশে আছে
ঘোরঅন্ধকার কি জানে আমার নীরবতা?
বলো—
তোমাদের আহ্লাদ কতটুকু জন্মাবে হুঁশিয়ার 
অন্ধকার থেকে জন্মেছি বলে নিজ পায়ে
দাঁড়িয়েছি; নাড়ির টানে খুঁজি চুপিসার
তোমাকেই খুঁজি বারবার প্রিয়অন্ধকার

একাকিত্বের পাশে কেন  আমাকে জড়াও
অপেক্ষা আমাকে গিলে খাবে; চেটেপুটে খাবে;
ধারণা মিটবে কি গ্রীবাতৃষ্ণা? রক্তের দাগ

রহস্যবার্তা

রহস্য ছড়িয়ে কাঁপাও সময়, মরে যাচ্ছে বেলা
কথা বুঝে না স্ফুরিত চোখ! কত দূরত্বে জমছে
                                                        মর্মবার্তা 
রহস্য শেষ পর্যন্ত আমাকে টানে! নাগাল পাই না 
যেখানে রোদ পুড়ে, ছায়ায় পুড়ে কি স্মৃতিচিহ্নরা?
ভেজা জামায় খুলছে শরম, কাঁপাদৃষ্টি ও অপেক্ষা 
না-হলে আমি, আমিও হতে পারি বোবা চোখে 
এক নাগাড়ে  রহস্য বোঝাই ‘ত্বরান্বিতার ঠোঁটে’
                                              নদী ও নারী কথা

রহস্য, ইচ্ছা ও অনুভবে আটকে যাচ্ছি জেনে
পুরো জীবন উপভোগ করতে বলো একদিনে! 

অপেক্ষা, পাহারা

আজকের দিনে জানালা জুড়িয়া আছে রোদের পাহারা
স্বভাব রঙটি হেঁটে অন্তপ্রান্তে চলে গেল জানো কি তুমি?
                                                                     সূর্যোদয়
জানালার গ্রিল কি টেনে ধরেছে কি আমার উদাসীনতা
তুমি পথে দাঁড়াও; বিশ্রাম নাও; ধরো  চুইংগাম চিবাও
আমি খুঁজে দেখি আমার প্রস্তুতি দেখি তোমার না-আসা
হাওয়াগাছটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল কি-না?
ভাবছি হবে; হয়ত হবে লোহারোদে পোড়া শিকলের মায়া
কতবেলা  অপেক্ষা করবে তুমি; তীব্র প্রখররোদের ছায়া?
এবেলা থামাই ভাল, যত অপেক্ষা; যত ব্যক্তিগতকথা

ক্ষয়রোগ

যা হারিয়ে যায় শত চেষ্ঠা করেও পাওয়া যায় না
অবশিষ্ট যতটুকু তাতেই বেঁচে থাকার আগ্রহ বাড়ায়
চাহিদা সারাক্ষণ পিছু টানে, এই সন্দেহে আকাঙ্খারা
জেদ করে, মনের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে না

এইশুধু, কথা থেকে খুঁটে নিতে পারি না কথার রহস্যটুকু
শুধু হাত পাতলে ঋণজমা বুকের বা-পাশ ঝরে রঙিনস্পৃহা
রোমাঞ্চদিনে স্বপ্ন বাঁধতে নেই নীরবতা শুনলে কষ্ট পাবে
কাউকে বলিনি, ক্ষয়রোগ একেলা হলে কতটা রক্তক্ষরণ
                                                             নিতে চায় খুলে

সমপাপ

কত কিছুই ঘটে, হাত না-পেতে সমভাবে
জেনে রেখ চুপচাপ, নিঃশব্দ জলফুল ফুটে
নিরূপায় বললে নির্ভরতা কমে
দ্বিমত করো না দ্বিধা
শর্তহীন লোভে পুড়ে

তারপরও বলব কেন যে খবর রাখ না মনের
আয়াসী আদর-চুম্বনসহ নিলাজ দাঁতের বিস্তার
দয়া করে ক্লান্ত দেহ থেকে উড়ছে বেদনাভার

প্রদীপ জ্বলে অন্ধকার হারায়
মোমের মতো  জ্বলে ও গলে
নিঃসঙ্গতা নরমবুকে ব্যথা পাবে না জেনে 
চিতায় জ্বলে না মনের কথা, জ্বলে সমপাপ

যদি সরে যেতে হয়

ঘুমের ভেতর আমাকে ও ধ্বংস কর অজ্ঞাতকামনায়
স্পর্শ যদি অপরাধ, তবে মনকথা কি প্ররোচণাময়?

অপরাধ মাপতে হাত নাড়ালাম, উপুড় করে দেখি 
সেও সন্দেহ মন খারাপের শিকল পরছে উষশ¡াসে
পার্কে খালি চেয়ার তোকে ডাকছে অপলক বিশ¡াসে

ঘুমে চোখ বন্ধ করি না, শেখাও যদি দেহ পরিমাপ
ঘুমে যতœ করে মিশে নিঃসঙ্গতা, দুশ্চিন্তারা চুপচাপ

সময় হারালে আমাকে বানাও খাঁচার পাখি ও ভয়
সযত্নে থামবে একদিন নিঃসঙ্গতাস,  হাওয়া সংশয়

এরকম দায়

আমাকে ফেলে দাও গর্তে কিম্বা গুহায়
এতে যদি পাথরে জমে কিছু আগ্রহ 
একান্তকথা, অপেক্ষা, অখ-সময়

বছর ঘুরে ওইদিনটি ফিরে আসে 
আমি স্পর্শফুল কিনি, স্মৃতি মাড়িয়ে
কাঁটাজল কিনি তোকে ভালোবেসে

আশার পাশে লুকাতে পারি না চোখ
যদি খুলে যায় তোর দৃষ্টি ও আক্ষেপ
কতবার খুলতে চেয়েছি হাওয়া-লজ্জা 
খুলতে পারিনি ভাঁজ, দেহের পাশে এই 
যে শুয়ে আছে উষ্ণ মায়া, আত্মীয়বন্ধন 

অনিচ্ছা ভ্রমে ওই দিন বছর ঘুরে দাঁড়ায়
মনের ত্রাসে এড়ানো যা কি পুরনো দায়?

ধাঁধা

চক্রাকারে ঘুরে কেউ যদি ফিরে আসে 
                                              ধাঁধায়
তাকে বারণ করো না—
অন্ততঃ বাস্তবতাটুকু বুঝে-ওঠার আগে
সেও নিয়ে আসতে পারে চায়ের পেয়ালায় ধরে
রাখা ফকফকা কিছু স¡প্ন কিংবা শাদা-সমাধান

কেউ যদি না ফেরে, তাকে ফেরাতে যাবে না কারণ
দেহের প্রণোদনা লুকিয়েছে অহংকার, ছায়াবাঁধামন

সহনচোখে

এই যে, তোমার দিকে না-তাকিয়ে কমে যাচ্ছে সলজ্জ
                                                 চোখের সহনক্ষমতা 
তুমি কি চাও, লোকে আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করুক
বলাবলি করুক, আলাদা থাকার মানে ঝগড়া হচ্ছে না
কিংবা আত্মসমর্পনের আগ-পিছে কোন সম্পর্ক ছিল না!

হতে পারে যে কোন ইচ্ছের আগে দীর্ঘশ¡াসের রঙটি একা
যদিও বিশ¡াসের আগে সাবধানতা ধরে রাখা সম্ভব হয় না!
এতদিন একা থাকা অসহ্য, ভালো থাকা সম্ভাব্য দরকার

এই যে, তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারি না বলে
সরলতারা কী কী ভাবছে? আর সময়ের ছলাকলা হাসছে   
সে-ও  হাসছে অনেক কষ্টে, আসলে এটাই নিয়ম হউক  
অচেনা ছিলে, আছ, থাকবে, যতটুকু ভাবছি সহনচোখে

মনব্যথা

খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন দেখে
আমার দুঃখরা খুব একা একা থাকে
কি আর বলিব : জোড়াচোখ জানে
কপোলের নিচে আপনিও  জাগছেন! 
                                     মনের ব্যথা

জমানো আরো কিছু কথা লুকোচুরি খেলছে জেনে
আপনি হাসছেন! আর জানতে চাচ্ছেন মোহাবয়ব
আমি ঘুমিয়ে পড়ার আগে ঘুমিয়ে থাকেন চোখে

আহা'রে, এখন আমার খুব হাসি পাচ্ছে আপনাকে 
                                               আপসকামী  দেখে

একটি ঘুমের নদী

অবশেষে তোর চোখের আদর খুঁজতে আসা 
রহস্যফল একাকী খুলে যায় রাত্রির ভেতর! 
সোজাসুজি মার্জনা করলে শব্দদেহে শতভাগ 
নিশ্চয়তা পাবে, বাকিটুকু ভীত, স্বার্থপর 
অপ্রস্তুতি দৃষ্টি কিছু লিখছেন? এই হল ম্যাপ 
চোখে খুঁজে দেখুন, পুরো পৃথিবীর পথ পাবেন

এইপথ বৃষ্টিবর্ষা কিছুই খুঁজে না, খুঁজে কেবল 
                                                    মর্মবেদনা
দীর্ঘশ্বাস স্বপ্নে-গন্ধে অন্ধকারের গল বুনে যায়! 
একটি শব্দ পর্দার আড়ালে লোকচুরি খেলছে
দেখে বাতাসের মৃদু আওয়াজ উড়ে যাচ্ছে বনে   
কিন্তু  আমাকে সন্দেহ করছে জীবনসহ শীতযাপন
ভাবছি শেষ পর্যন্ত আমার শীতঘুম কি ভাসিয়ে 
নিয়ে যাচ্ছে আরও একটি গোপন ঘুমের নদী

দায়

একই ছাদের নিচে বসবাস। তবুও নেই সহাবস্থান লোক দেখানো ভালোবাসা। সে-ও তো ছায়ার মত নীরব, নাটক বলা যাবে না, যেন জীবন্ত অভিনয়!... কী  অদ্ভূদ প্রজাতি দু’জন। সম্পর্ক আছে, সম্পর্ক ঠিকে থাকাই আত্মসম্মানবোধ

যেন একা, একাই ছুটছে নিজেদের দায়

প্রতিদিন

প্রতিদিন কেমন করে যে হারিয়ে যায়! সন্ধ্যা নামলেই পথহারাদের ডেকে বলি- তোমরা রাতকে আব্রু দিয়ে রাখো জোৎস্নায় আর আমাকে পোহাতে দাও রোদ। কেমন করে যে প্রতিদিন যায়! স্বপ্নগুলো খুলে দেখব কী? হারানো আশা খুঁজলেই মনে জাগে ভয়

তোর চাপাহাসি চুপিচুপি জিজ্ঞেস করছে : কেমন আছো?

গতি

গতি-দাহ নিয়ে সন্দিহান চোখ, সে-ও আসতে পারে এমন কথা কাউকে বলা যাবে না দু’জনের সন্দেহে; এরকম চিন্তায় আমাদের সম্পর্ক মিশে যেতে পারে আ-ছোঁয়া ভ্রমর বাতাসে; রূপকথার স্মৃতি বলতে আসিনি যা বলব শুধু, শুধুই নিজের কাহিনি

আগ্রহ

ইচ্ছের রঙ যদি মাপা যেত; বোধ হয় খারাপ হত না। নাক টেনে বেদনার 
বয়স জানা যেত আর বেদনার ঘ্রাণ পেলে জন্ম  দিতে আরেকটি গল্পের... 
তুমি শ্রুতা হলে সে ঘ্রাণটি জষ্টি-আষাঢ়ে আকাশে বাতাসে মিশে বাষ্প হত 
না। আমরাও জানতাম বেদনার নাতিদীর্ঘ ইতিহাস 

বেদনা পেতে-পেতে তুমি দেখতে কীভাবে ইচ্ছারা আগ্রহে হারায় 

পা ও পথ

সে এসেছে কাল। আজই চলে যাবে! সুখে-দুখে টের পাই আসা-যাওয়াই
একচিরন্তন। তবে ‘পথ যেন কেমন কেমন’ পায়ে-পায়ে হাঁটতে ধুলো;
ধুলোপায়ের ছাপগুলো কী আটকাবে পথ? পায়ের শব্দ বাজছে কানে। আমার
 চোখ দৌঁড়াচ্ছে জোড়াপায়ে। ভালো থেকো পথ।

হয়ত আবার আমাদের দেখা হবে

জল তো জলই

আমিও এসেছি সবার কাছাকাছি। আনন্দে কারা-কারা হাসবেন। হাসুন। বলুন,
 কী  কী আয়োজন করবেন?... পেছন থেকে একজন বললেন সবই হবে; আগে 
বসুন। বসে চুপচাপ ভাবছি সকল আয়োজন এক রকম হয় না, এক রকম দেখিনি 
আজও মানুষের চেহারা, চরিত্র, মন। জলের তৃষ্ণা বাড়ছে কী সাজের? সাঁতার 
খুলে আমি নামছি না জলে


তিনি বলছেন : নামুন তৃষ্ণার্ত জলে, জল তো জলই